বাংলাদেশের ময়মনসিংহ এর কিছু বাস্তব কথা
ময়মনসিংহ কখনোই কোনো বিদেশি ভূমি ছিল না। এটি ছিল প্রাচীন কামরূপের অবিচ্ছেদ্য অংশ— সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে গড়ে ওঠা পুরনো অসমেরই এক অভিন্ন অংশ। ইসলামের আগমনের বহু আগেই কোচ, হাজং, বড়ো প্রভৃতি বিভিন্ন খিলঞ্জিয়া জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার ভিত্তি নির্মাণ করেছিল। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ময়মনসিংহ সবসময়ই স্বাভাবিকভাবে অসমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু সেই অবিচ্ছিন্ন সংযোগকে অত্যন্ত কৌশলে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো। যে অঞ্চল একসময় জনগোষ্ঠী ও স্বদেশি মানুষের আবাসভূমি ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, রাজনৈতিক তুষ্টিকরণ এবং অনিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় উগ্রবাদ পরিবেশকে পাল্টে দেয়। সভ্যতার উপর মতাদর্শের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলে কীভাবে একটি স্বাভাবিক ও শান্ত অঞ্চলকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া যায়— তার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ আজকের ময়মনসিংহ। এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। যে ভূমি একসময় একই সভ্যতার পরিসরের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেই ভূমিতেই আজ হিন্দুরা নিরাপদ নয়। এই সত্যটি সবার গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত। এটি কোনো দূরবর্তী দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়— অসম সীমান্ত থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরেই এই সব ঘটছে। সাম্প্রতিককালে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া হুমকি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও হিংসার ঘটনাগুলি বহুদিন ধরে দেওয়া সতর্কবার্তাকেই সত্য প্রমাণ করেছে। কিন্তু আপনারা কি জানেন, এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব এক রাতের মধ্যে হয়নি। এর বীজ রোপিত হয়েছিল কিছু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। প্রথমে দেশভাগের সময়— যখন ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক স্বার্থে বাস্তব সত্য ও সভ্যতাকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল। তার পরে তথাকথিত ‘আইরন লেডি’-র নীতি ও নীরবতা বিভাজনকে সমর্থন করা শক্তিগুলিকে আরও সাহসী করে তুলেছিল। এই ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্তগুলোর মূল্য আজ দিল্লিতে বসে ফাইলে স্বাক্ষর করা স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদরা দেয়নি; মূল্য দিচ্ছে ময়মনসিংহের সাধারণ হিন্দুরা— যারা নিজেদেরই পূর্বপুরুষের ভূমিতে ভয়-ভীতির মধ্যে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এটি কেবল ইতিহাস নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। বাস্তবতার মুখোমুখি হতে অস্বীকার করলে এবং এসব ঘটনাকে কেবল ‘ভয় দেখানো’ বলে উপহাস করলে, ময়মনসিংহে যা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি অন্যত্রও হতে পারে। নিকৃষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি ও মতাদর্শগত সংঘাতের ফলে কীভাবে একটি সমগ্র অঞ্চল ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়— তার এক জীবন্ত স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ময়মনসিংহের এই মর্মান্তিক কাহিনি।
((সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগৃহীত))
Comments
Post a Comment