অবহেলার অধ্যায় পেরিয়ে উন্নয়নের পথে রামকৃষ্ণনগর সম-জেলা

মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ২ ফেব্রুয়ারি একাধিক শিক্ষা ও সড়ক প্রকল্পের শুভ সূচনা করলেন বিধায়ক বিজয় মালাকার
এক সময়ের দীর্ঘ অবহেলা, ভাঙাচোরা রাস্তা, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন এবং নিত্যদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ এসবই ছিল রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বহু এলাকার পরিচিত বাস্তবতা। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যেত গ্রামীণ সড়ক, অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হতো পরিবার গুলিকে। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হতো বছরের পর বছর। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তব পরিবর্তন ছিল ধীর ও সীমিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। আসাম রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন ২ ফেব্রুয়ারি রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রে। শিক্ষা ও যোগাযোগ পরিকাঠামোকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে ২ ফেব্রুয়ারি একদিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস হলো। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে প্রকল্প গুলির সূচনা করলেন রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিজয় মালাকার। বিধায়কের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ভেটারবন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধূপনপুর ট্রাইবেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন স্কুল ভবনের শুভ শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ আমূল বদলে যাবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষক মহল। এই উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জনসভারও আয়োজন করা হয়। এরপর ভেটারবন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ফানাই থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা এই পথটি বর্ষাকালে কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত। নতুন রাস্তা নির্মিত হলে কৃষক, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারপর ভেটারবন্দ এলাকার ভৈরববাড়ি থেকে রাঙ্খল বস্তি পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের শুভ সূচনা করলেন বিধায়ক বিজয় মালাকার। এই রাস্তাটি এলাকার একাধিক বসতি ও বাজারকে যুক্ত করবে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একই দিনে সিংলাছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সিআর পিডব্লিউডি রোড থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজি এসওয়াই) আওতাধীন আবাদিবস্তি রোড পর্যন্ত প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হয়। এই রাস্তা নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত আবাদিবস্তি এলাকার মানুষজন মূল সড়কের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হতে পারবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান রাজ্য সরকার কেবল শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকাগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই নীতির বাস্তব রূপায়ণে বিধায়ক বিজয় মালাকার নিয়মিতভাবে রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জনদুর্ভোগের কথা সরকারের কাছে তুলে ধরছেন এবং প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। একাধিক শিক্ষা ও সড়ক প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী। অতীতের অবহেলা ও বঞ্চনার দিন পেরিয়ে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরছে এই অঞ্চল এমনটাই মত সাধারণ মানুষের। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও বিধায়ক বিজয় মালাকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে জনমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চেরাগী জেলা পরিষদ পঙ্কজ রায় শর্মা, দুল্লভছড়া জেলা পরিষদ প্রণব মুখার্জি ও পূর্ত বিভাগের বাস্তুকার সহ বিজেপি দলের বিভিন্ন পদাধিকারী ও কার্যকর্তারা।

(নিউজ ডেস্ক রির্পোট এবি নিউজ)

Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ এর কিছু বাস্তব কথা

রামকৃষ্ণনগরে বজরং দল জেলা কমিটির পুনর্গঠন

আনিপুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের নির্দেশ